দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান বরিশাল বাসির:নতুন রূপে ফিরছে বরিশালের জীবনানন্দ দাস স্টেডিয়াম
নিজস্ব প্রতিবেদক:
দীর্ঘ ২১ বছরের অবহেলা, অচলাবস্থা ও অব্যবস্থাপনার অধ্যায় পেছনে ফেলে নতুন রূপে জেগে উঠছে বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর তীরে অবস্থিত কবি জীবনানন্দ দাস স্টেডিয়াম। প্রায় ৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অধীনে চলমান আধুনিকায়ন প্রকল্পের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যায়ের ক্রিকেট আবারও ফিরতে পারে এই ঐতিহ্যবাহী ভেন্যুতে।
২০২২ সালে শুরু হওয়া সংস্কার প্রকল্পের আওতায় স্টেডিয়ামে নির্মাণ করা হয়েছে আধুনিক প্যাভিলিয়ন, আন্তর্জাতিক মানের মিডিয়া সেন্টার, প্যাসেঞ্জার লিফট, ইনডোর প্র্যাকটিস নেট এবং উন্নত সুযোগ-সুবিধা। ইতোমধ্যে মূল পিচের কাজ শেষ হয়েছে। দীর্ঘ ২১ বছর পর পুনরায় চালু হয়েছে আধুনিক ফ্লাডলাইট। বর্তমানে আউটফিল্ডে সবুজ ঘাস বসানোর কাজ শেষ হলেই মাঠটি পুরোপুরি প্রস্তুত হবে।
একসময় অব্যবস্থাপনা, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ও নানা অনিয়মের কারণে বরিশালের এই ভেন্যু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়োজনের তালিকা থেকে কার্যত ছিটকে পড়েছিল। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হন দক্ষিণাঞ্চলের অসংখ্য প্রতিভাবান ক্রিকেটার।
স্থানীয় অনূর্ধ্ব-১৯ দলের পেসার রাফসান বলেন, বছরের পর বছর মাঠটির অবহেলা দেখে তারা হতাশ ছিলেন। আন্তর্জাতিক মানের একটি মাঠ অযত্নে পড়ে থাকায় অনেক ক্রিকেটারের স্বপ্ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আরেক ক্রিকেটার আসিফ বলেন, অতীতে মাঠের রক্ষণাবেক্ষণে নানা অনিয়ম ছিল। অনুশীলনের উপযুক্ত পরিবেশ, ড্রেসিংরুম ও ফ্লাডলাইট—সবকিছুই ছিল বেহাল। তবে বর্তমান সংস্কার কাজ শেষ হলে বরিশালের ক্রিকেট আবারও নতুন গতি পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
২৯ একর আয়তনের এই স্টেডিয়ামে সর্বশেষ ২০১৯ সালের ২৬ অক্টোবর বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা অনূর্ধ্ব-১৯ দলের টেস্ট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর আর কোনো আন্তর্জাতিক বা বড় জাতীয় ম্যাচ আয়োজন করা হয়নি।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক সহ-সভাপতি এ. কে. এম. আসাদুজ্জামান খসরু বলেন, ৬৫ কোটি টাকার এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে স্টেডিয়ামটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের উপযোগী হয়ে উঠছে। ক্রিকেট বোর্ডও বরিশালে আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরিয়ে আনার বিষয়ে ইতিবাচক।
বরিশাল জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মশিউর রহমান মঞ্জু জানান, সংস্কারকাজ পুরোপুরি শেষ হলে বছরের শেষের দিকেই বড় ম্যাচ আয়োজনের রোডম্যাপ বাস্তবায়ন করা হবে। নতুন অ্যাডহক কমিটি মাঠটিকে আন্তর্জাতিক মানে ফিরিয়ে আনতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নতুন সাজে ফিরতে যাওয়া জীবনানন্দ দাস স্টেডিয়াম এখন শুধু একটি মাঠ নয়, বরিশালের ক্রিকেটপ্রেমী মানুষের নতুন স্বপ্ন ও সম্ভাবনার প্রতীক হয়ে উঠেছে। বছরের শেষেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের উচ্ছ্বাসে আবার মুখর হবে এই ঐতিহ্যবাহী ভেন্যু—এমন প্রত্যাশাই সংশ্লিষ্ট সবার।
মন্তব্য
0টি মন্তব্যআপনার মন্তব্য লিখুন