বৃহস্পতিবার, 03 সেপ্টেম্বর 2026 ঢাকা, বাংলাদেশ

৩৭ বছরের পুরোনো বাসন্ডা বেইলি সেতুতে ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত, আতঙ্কে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ।

মোঃ তামিম | 08 আগস্ট 2026, 09:43 PM | পঠিত: 43 বার
20260808_214156
ঝালকাঠি প্রতিনিধি: বরিশাল-খুলনা আঞ্চলিক মহাসড়কের ঝালকাঠি সদর উপজেলার বাসন্ডা নদীর ওপর নির্মিত প্রায় ৩৭ বছরের পুরোনো বেইলি সেতুটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন শত শত বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও পণ্যবাহী যান চলাচল করায় দীর্ঘদিনের পুরোনো সেতুটির বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেতুর ওপর কোনো যানবাহন উঠলেই পুরো কাঠামো কেঁপে ওঠে। স্টিলের পাটাতন ও সংযোগস্থল আলগা হয়ে যাওয়ায় যান চলাচলের সময় বিকট শব্দে প্রকম্পিত হয় সেতুটি। বিভিন্ন স্থানে নাট-বল্টু আলগা হয়ে গেছে এবং পাটাতনের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত। বারবার ঝালাই ও মেরামত করা হলেও কিছুদিন পর আবারও একই সমস্যা দেখা দিচ্ছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৯ সালের অর্থবছরে বাসন্ডা নদীর ওপর প্রায় ৩৯৪ ফুট দীর্ঘ ও ২৫ ফুট প্রশস্ত এই বেইলি সেতু নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘ প্রায় চার দশক ধরে বরিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বাগেরহাট, খুলনাসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে সেতুটি। তবে বয়স ও অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ সামলাতে গিয়ে বর্তমানে সেতুটির বিভিন্ন অংশে দেখা দিয়েছে ক্ষয় ও দুর্বলতা। ভারী যানবাহন চলাচলের সময় কাঁপুনি ও বিকট শব্দে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন চালক ও যাত্রীরা। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়েই সেতুটি পার হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। সেতুটির কোনো অংশে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে বরিশাল-খুলনা আঞ্চলিক মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ এই যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক জেলার যাত্রী ও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে। পুরোনো এই সেতু নিয়মিত মেরামতের মাধ্যমে সচল রাখা হলেও স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। ইতোমধ্যে নতুন স্থায়ী সেতু নির্মাণের জন্য ফিজিবিলিটি স্টাডি সম্পন্ন হয়েছে। তবে নতুন সেতুর নির্মাণকাজ শুরু না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পুরোনো সেতুটিই ব্যবহার করতে হবে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষকে। বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আগেই বাসন্ডা নদীর ওপর নতুন স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি এখন সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দাবি হয়ে উঠেছে।

মন্তব্য

0টি মন্তব্য

আপনার মন্তব্য লিখুন

-এর মন্তব্যের উত্তর লিখছেন।
মন্তব্য প্রকাশের আগে সম্পাদকীয় অনুমোদন প্রয়োজন হতে পারে।
এখনো কোনো মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি।

সম্পর্কিত সংবাদ