পবিপ্রবিতে র্যাগিংয়ের ঘটনায় ১৩ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি।
নিজস্ব প্রতিবেদক:
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) এক নবীন শিক্ষার্থীকে র্যাগিংয়ের ঘটনায় ১৩ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শাস্তির মধ্যে রয়েছে জরিমানা, হল ও ক্লাস থেকে বহিষ্কার এবং অভিভাবকের উপস্থিতিতে মুচলেকা দেওয়ার নির্দেশ।
সোমবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার জামাল হোসেনের সই করা এক অফিস আদেশে এসব তথ্য জানানো হয়।
শাস্তিপ্রাপ্ত ১৩ শিক্ষার্থী হলেন—মো. আসিফ জাহান, প্রিয় কুমার সাহা, তৌফিক হোসেন আলী, মনুয়িস তাজওয়ার মাহি, আশরাফুল ইসলাম, সাকিব হোসেন মজুমদার, মুমিনুল ইসলাম, উৎস বর্মণ, মো. নাহিম, মোহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম, জোবায়ের আহমেদ লিমন, মো. রাজিব মিয়া ও রক্ষণ চন্দ্র রায়। তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং বিজয়-২৪ হলের আবাসিক।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, শাস্তির আওতায় আসা শিক্ষার্থীদের কয়েকজনকে ৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি কাউকে এক সেমিস্টার থেকে এক বছর পর্যন্ত হল ও ক্লাস থেকে বহিষ্কার এবং অভিভাবকের উপস্থিতিতে মুচলেকা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে একই ধরনের অপরাধে জড়ালে তাঁদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস আদেশে বলা হয়, এক নবীন শিক্ষার্থীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে র্যাগিংয়ের পরিকল্পনা, নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণের পাশাপাশি নবীন শিক্ষার্থীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১৯ আগস্ট রাতে। আইন ও ভূমি প্রশাসন অনুষদের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থী হাবিবকে বিজয়-২৪ হলের কমনরুমে নিয়ে র্যাগিং করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। একপর্যায়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে তাঁকে দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন ওই নবীন শিক্ষার্থী। অভিযোগের ভিত্তিতে বিজয়-২৪ হলের প্রভোস্ট মাসুদুর রহমানকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছিল এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তারা প্রতিবেদন জমা দেয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার জামাল হোসেন জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জরিমানা পরিশোধ ও মুচলেকা দাখিল না করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে নির্ধারিত শাস্তি কার্যকর করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে র্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।
মন্তব্য
0টি মন্তব্যআপনার মন্তব্য লিখুন