এখনই হচ্ছে না এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের পে-স্কেলের গেজেট।
নিজস্ব প্রতিবেদক:
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন জাতীয় পে-স্কেলে অন্তর্ভুক্ত করে পৃথক গেজেট বা প্রজ্ঞাপন জারির বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আপাতত কোনো ‘ভালো খবর’ দিতে পারছে না সংশ্লিষ্টরা।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে অর্থ বিভাগের সঙ্গে মৌখিকভাবে আলোচনা করলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য পৃথক প্রজ্ঞাপন কীভাবে এবং কখন জারি হবে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পৃথক পে-স্কেল কার্যকর করতে হলে প্রথমে তিনটি অধিদপ্তরের অধীনে কর্মরত জনবলের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের হিসাব করতে হবে। সেই হিসাব প্রস্তুত করে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
এরপর অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতি সংক্রান্ত চিঠি পাওয়ার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। এটিই সংশ্লিষ্টদের মতে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া।
তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়েও পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা সম্ভব হতে পারে বলে সূত্রটি জানিয়েছে। সেক্ষেত্রেও অর্থ মন্ত্রণালয়ের পৃথক সম্মতি প্রয়োজন হবে।
মন্ত্রণালয়ের এক উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পে-স্কেলের পৃথক প্রজ্ঞাপনের বিষয়ে উচ্চপর্যায় থেকে এখনো কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। ফলে পৃথক প্রজ্ঞাপন কীভাবে জারি হবে, সে বিষয়ে এই মুহূর্তে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা সম্ভব নয়।
নতুন পে-স্কেলে বেতন কীভাবে নির্ধারিত হবে
এদিকে নতুন জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন নির্ধারণের পদ্ধতি নিয়েও আলোচনা চলছে। নতুন বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে একজন কর্মচারীর ৩০ জুনের মূল বেতন, বর্তমান গ্রেড এবং নতুন বেতন কাঠামোয় সংশ্লিষ্ট গ্রেডের নির্ধারিত স্কেল বিবেচনা করা হবে।
নতুন বেতন কাঠামোয় বেতন নির্ধারণের জন্য মূলত দুটি পদ্ধতির কথা বলা হয়েছে। যারা পুরোনো বেতন স্কেলের একেবারে প্রারম্ভিক ধাপে রয়েছেন, তাদের হিসাব তুলনামূলক সহজ। আর যারা স্কেলের মাঝামাঝি বা ওপরের ধাপে বেতন পাচ্ছেন, তাদের ক্ষেত্রে পুরোনো স্কেলের শুরু থেকে বর্তমান মূল বেতনের ব্যবধান হিসাব করে নতুন স্কেলে তা সমন্বয় করতে হবে।
প্রারম্ভিক ধাপে থাকা কর্মচারীদের বেতন
কোনো কর্মচারী ৩০ জুন পর্যন্ত তার বর্তমান বেতন স্কেলের সর্বনিম্ন বা প্রারম্ভিক ধাপে বেতন পেয়ে থাকলে নতুন বেতন কাঠামোয় সংশ্লিষ্ট গ্রেডের প্রারম্ভিক ধাপেই তার বেতন নির্ধারণ করা হবে।
উদাহরণ হিসেবে, ১৬তম গ্রেডের কোনো কর্মচারীর পুরোনো বেতন স্কেল যদি ৯ হাজার ৩০০ টাকা থেকে শুরু হয় এবং তিনি ৯ হাজার ৩০০ টাকা মূল বেতন পান, তাহলে নতুন কাঠামোয় ওই গ্রেডের প্রারম্ভিক বেতন যদি ২১ হাজার ৯০০ টাকা হয়, তার নতুন মূল বেতন হবে ২১ হাজার ৯০০ টাকা।
মাঝামাঝি ধাপে থাকা কর্মচারীদের হিসাব
কোনো কর্মচারী পুরোনো বেতন স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপের চেয়ে বেশি মূল বেতন পেলে প্রথমে পুরোনো স্কেলের শুরু থেকে তার বর্তমান মূল বেতনের ব্যবধান বের করতে হবে।
এরপর ওই ব্যবধান নতুন বেতন স্কেলের প্রারম্ভিক বেতনের সঙ্গে যোগ করা হবে। হিসাবের ফল নতুন স্কেলের কোনো নির্ধারিত ধাপের সঙ্গে মিলে গেলে সেই ধাপ অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ করা হবে। আর হিসাবের অঙ্কটি কোনো নির্ধারিত ধাপে না মিললে তার পরবর্তী উচ্চতর ধাপ গ্রহণ করতে হবে।
যেমন, কোনো কর্মচারীর বর্তমান মূল বেতন ১৩ হাজার ৭৯০ টাকা এবং তার পুরোনো স্কেলের শুরু ১২ হাজার ৫০০ টাকা হলে ব্যবধান দাঁড়ায় ১ হাজার ২৯০ টাকা।
নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক বেতন ২৫ হাজার টাকা হলে এর সঙ্গে ১ হাজার ২৯০ টাকা যোগ করে পাওয়া যায় ২৬ হাজার ২৯০ টাকা। কিন্তু নতুন স্কেলে ২৬ হাজার ২৯০ টাকা নির্ধারিত কোনো ধাপ না থাকলে পরবর্তী উচ্চতর ধাপ অনুযায়ী তার নতুন মূল বেতন নির্ধারণ করা হবে। অর্থাৎ, যদি পরবর্তী ধাপ ২৬ হাজার ৩০০ টাকা হয়, তাহলে নতুন মূল বেতন হবে ২৬ হাজার ৩০০ টাকা।
নতুন বেতন জানতে যে তথ্যগুলো প্রয়োজন
নিজের নতুন মূল বেতন হিসাব করতে একজন চাকরিজীবীকে প্রথমে তিনটি তথ্য নিশ্চিত করতে হবে—
৩০ জুন তারিখে তার মূল বেতন কত ছিল;
তিনি কোন গ্রেডে কর্মরত ছিলেন;
নতুন জাতীয় বেতন স্কেলে ওই গ্রেডের প্রারম্ভিক ও নির্ধারিত ধাপগুলো কী।
তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত নতুন পে-স্কেল কীভাবে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্তভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরবর্তী প্রজ্ঞাপনের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য
0টি মন্তব্যআপনার মন্তব্য লিখুন